সাকিবের বিকল্প হচ্ছেন কে?

0

বিপিএলের ফাইনাল ম্যাচে বাঁ হাতের অনামিকায় চোট পেয়েছেন সাকিব আল হাসান। তাতে নিউজিল্যান্ড সফরই শেষ হয়ে গেছে এই অলরাউন্ডারের। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে। ওয়ানডে সিরিজে তাই সাকিবের বিকল্প হিসেবে কে থাকছেন তা এখন প্রশ্ন।

এ অবস্থায় সাকিবকে ছাড়ায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ প্রসঙ্গে ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বলেন, ‘নিউজিল্যান্ড সফর এমনিতেই কঠিন, সাকিবকে ছাড়া আরও কঠিন হবে। সাম্প্রতিক সময়ে সাকিবকে ছাড়া খেলার যে অভিজ্ঞতা, সেটা কাজে লাগাতে চাই।’শেষ সময়ে এসে সাকিব দল ছিটকে গেলেও তার পরিবর্তে এখনো কাউকে দলে নেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়নি।

ওয়ানডে দলে সাকিবের পরিবর্তে কাকে নেয়া হবে এই প্রসঙ্গে নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন বলেন, ‘কোচ স্টিভ রোডসকে ফোন করেছিলাম আমি। সাকিবের জায়গায় এখনও কাউকে চাননি তিনি। মাশরাফি দলের সঙ্গে যোগ দেয়ার পর ব্যাপারটা নিয়ে আলোচনা করবেন। তখন যদি কাউকে প্রয়োজন মনে করেন পাঠানো হবে।’

তবে সাকিবের বিকল্প হিসেবে কাউকে পাঠাতে হলে কোনো বাহাতি জেনুইন স্পিনারকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিবেন তারা। ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান জানিয়েছেন আজ (সোমবার) জানিয়ে দিবেন কে যাচ্ছেন সাকিবের বিকল্প হিসেবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। নিউজিল্যান্ডে প্রধান কোচ আছেন, অধিনায়ক মাশরাফিও সেখানে। তারা হয়তো একটা মতামত জানাবেন। সেটিও আমাদের জানতে হবে। আমি আশা করছি আজই জানিয়ে দিতে পারবো যে সাকিবের পরিবর্তে আসলে দলে কাকে নেয়া হচ্ছে।’

ইমরুল কায়েসকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু ইনজুরিতে পড়ায় ওয়ানডে সিরিজে পাওয়া যাচ্ছে না এই ওপেনারকে। গতকাল ইমরুলের এমআরআই রিপোর্ট দেওয়ার কথা ছিলো। সেটি দেখে জানা যাবে, টেস্ট সিরিজে ইমরুলকে পাওয়া যাবে কিনা। যদি টেস্ট সিরিজে তাকে পাওয়া যায়, তা হলে স্কোয়াডে যোগ করা হতে পারে ইমরুল।

অন্যদিকে বাহাতি স্পিনারের তালিকায় এগিয়ে রয়েছেন তাইজুল ইসলাম। ২০১৫ বিশ্বকাপে একটি ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা আছে তাইজুলের। ২৩টি টেস্ট খেলা সাদা পোশাকের বিশেষজ্ঞ এই স্পিনার নিউজিল্যান্ডের মাটিতে খেলন নি কোন টেস্ট। তাই কঠিন চ্যালেঞ্জ মেনে কাজ করছিলেন ভিন্নভাবে।

এ বিষয়ে তাইজুল বলেন, ‘নির্বাচকরা ভাল বুঝবে কে যাবে কে যাবে না। তবে সুযোগ পেলে ভাল করার চেষ্টা করবো। এর আগে নিউজিল্যান্ডে এক ম্যাচ খেলেছি। কিছুটা হলেও আমার অভিজ্ঞতা আছে।’ তাইজুল বলেন, ‘সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে। ব্যাটসম্যানকে বোঝা। আমি এইটা নিয়ে অনেক বেশি কাজ করছি। যখন গিয়েছিলাম তখন পেসারদের শুধু নয় স্পিনারদের কাজ করার সুযোগ আছে।’

ভারত-নিউজিল্যান্ড সীমিত ওভারের ফরম্যাটে স্পিনারদের আধিপত্য ছিলো লক্ষণীয়। তাইজুলও সিরিজটিতে চোখ রেখেছিলেন। তাই আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। কিউদের বধ করতে তাই সংকল্প করেছেন এমন। ২৮ ফ্রেব্রুয়ারি হ্যামিল্টনে প্রথম টেস্ট মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড। কিন্তু, তার আগে ক্রাইষ্টচার্চে হতে যাওয়া ১৬ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দলের সাথে যোগ দেয়া প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে এই স্পিনারের।

উল্লেখ্য, গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আঙুলের চোটে ভুগছেন সাকিব। বছরের শুরুতে ত্রিদেশীয় সিরিজে বাম হাতের কনিষ্ঠায় চোট পেয়ে মাঠের বাইরে চলে যান। দেশের মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ মিস করেন। এশিয়া কাপেও সবগুলো ম্যাচ না খেলেই দেশে ফিরতে হয় তাকে। তারপর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজেও খেলা হয়েছিল না সাকিব আল হাসানের।

Leave A Reply