জোটে জমবে ভোটের লড়াই

0

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) প্রতিটি আবাসিক হলেই রয়েছে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। কর্মীসংখ্যা বেশি হওয়ায় গঠনতন্ত্র নির্দেশিত পদের চেয়েও বেশিসংখ্যক পদ দেওয়া হয়েছে। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের পর থেকেই হলে হলে আধিপত্য ধরে রেখেছে সংগঠনটি। তবে প্রায় ১০ বছর ধরে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত ছাত্রদল। মূলত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আর ঢুকতে পারেনি তারা। ফলে নতুন শিক্ষার্থীদের কাছেও অনেকটাই অপরিচিত হয়ে পড়েছে। সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড তেমন না থাকায় নতুন কর্মীও নেই।

জানা গেছে, নির্বাচনে চারটি প্যানেল হতে পারে। ক্যাম্পাসের সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো সঙ্গে নিয়ে প্যানেল দেবে ছাত্রলীগ। তারা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সব সংগঠনকে সঙ্গে নিতে পারে। সংগঠনগুলো হলো—বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী, বাংলাদেশ ছাত্র আন্দোলন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বিসিএল), বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (জাসদ) ও বাংলাদেশ ছাত্র সমিতি। ছাত্রদলও বিএনপি জোটে থাকা দলগুলোর ছাত্রসংগঠনগুলোকে নিয়ে তারা প্যানেল গড়তে পারে বলে জানা গেছে। এ জন্য বিভিন্ন হল শাখার নেতাদের সঙ্গে সভা করেছে তারা।

এককভাবে প্যানেল দিতে ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রত্ব থাকা নেতাকর্মীদের একটি তালিকাও তৈরি করেছে সংগঠনটি। বাম ছাত্র সংগঠনগুলো সমমনা সংগঠনগুলোর মোর্চা ‘প্রগতিশীল ছাত্র জোট’ ও ‘সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্য’ মিলে প্যানেল ঘোষণা করতে পারে। পাহাড়ি বা পার্বত্য অঞ্চলের সংগঠনগুলোকেও সঙ্গে নেবে তারা। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে গড়ে ওঠা আন্দোলনের নেতাকর্মীরা বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে প্যানেল ঘোষণা করতে পারে। মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের সংগঠন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড থেকেও প্যানেল আসতে পারে।

ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তীর্ণ হয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর অধ্যয়ন শেষে এমফিল বা সন্ধ্যাকালীন কোর্সে অধ্যয়নরত ৩০ বছরের মধ্যে থাকা শিক্ষার্থীও ভোটার, তাঁরা প্রার্থীও হতে পারবেন। গঠনতন্ত্র সংশোধন করে এমন ধারা যুক্ত করা হয়েছে।

জানা যায়, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক চারজনই প্রার্থী হওয়ার যোগ্য। ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী প্রার্থী হতে চান বলে জানা যায়। দুজনই এখন নিয়মিত শিক্ষার্থী না হলেও নিজ বিভাগে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর শেষ করে অন্য একটি বিভাগে ভর্তির মাধ্যমে ছাত্রত্ব টিকিয়ে রেখেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইনও নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহী।

তবে তাঁরা বলছেন, দল যাঁকে মনোনীত করবে সেই সিদ্ধান্তে ভর করে তাঁরা নির্বাচনে যাবেন। এ ক্ষেত্রে ছাত্রদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে এমনদেরই মনোনয়ন দেওয়ার দাবি তাঁদের। ছাত্রলীগের অন্য একটি পক্ষ বলছে, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার শীর্ষ পদের নেতাদের বাদ দিয়ে অন্যদের মনোনয়ন দেওয়া হোক। এদিকে একটি সূত্র জানায়, নির্বাচনে প্রার্থী দিতে সংকটে পড়তে পারে ছাত্রলীগ। কারণ হল কমিটিগুলোতে থাকা অনেক নেতার ছাত্রত্ব নেই।

বাম জোট সূত্র জানায়, প্রগতিশীল ছাত্র জোট ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্যের প্যানেলে সম্ভাব্য প্রার্থী ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী। তিনি নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম শেষে সন্ধ্যাকালীন কোর্সে পড়াশোনা করছেন। সংগঠনটির ঢাবি সংসদের সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক রাজীব দাশও প্রার্থী হতে পারেন।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি সালমান সিদ্দিকী, ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির ও সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল হক ইশতিয়াকও রয়েছেন সম্ভাব্য তালিকায়। হল ও কেন্দ্রীয় সংসদে বেশ কয়েকজন নারী শিক্ষার্থীকে মনোনীত করা হতে পারে বলেও জানান তাঁরা।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা বলছে, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূর, মোহাম্মদ রাশেদ খান, বিন ইয়ামিন ও মাহফুজ হেলালী সম্ভাব্য প্রার্থী। নুরুল হক নূর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা প্যানেল নিয়ে আলোচনা করেছি; কিন্তু চূড়ান্ত হয়নি।

ছাত্রদল সূত্র জানায়, সংগঠনটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা ছাত্রত্ব না থাকায় নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না বলে হল পর্যায়ের আহ্বায়ক কমিটির সদস্যদের তালিকা করা হচ্ছে। ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক বাশার সিদ্দিকী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নির্বাচনের পরিবেশ ও সহাবস্থান না থাকলেও প্রশাসন তড়িঘড়ি করেই তফসিল ঘোষণা করেছে। এতে আমরা সন্তুষ্ট নই। নিজেরা প্যানেল নিয়ে আলোচনা করব। আর নির্বাচন যাওয়ার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেব।’

Leave A Reply