হজরত বেলাল (আঃ) যে আমলে প্রিয়নবির আগে জান্নাতে গেলেন

0

মসজিদে নববির মুয়াজ্জিন হজরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু। প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন সকালে বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে তার বিশেষ আমলের কথা জিজ্ঞাসা করলেন। যে আমলের কারণে হজরত বেলাল প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগে জান্নাতে পায়চারি করছিলেন।

হজরত বেলালের বিশেষ আমলের বর্ণনা সম্পর্কিত হাদিসটি মুসলিম উম্মাহর জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হজরত বেলালের বিশেষ আমল দু’টি ছিল সহজ। যা পালনে সহজেই মুসলিম উম্মাহ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে। হাদিসে এসেছে-হজরত আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ তাঁর পিতার কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, একদিন সকালে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ডেকে বললেন- ‘হে বেলাল! কি এমন কাজ করে তুমি জান্নাতে আমার আগে চলে গেলে?

আমি গত রাতে (স্বপ্নে) জান্নাতে প্রবেশ করলে তোমার (পায়চারির/জুতার) শব্দ আমার সামনে থেকে শুনতে পেলাম!’ বেলাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) – আমি যখনই আজান দিয়েছি, তখনই ২ রাকাআত নামাজ পড়েছি। – আর যখনই আমি অপবিত্র হয়েছি তখনই আমি সঙ্গে সঙ্গে অজু করে নিয়েছি। এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘এ কাজের জন্যই। (জান্নাতে আমার আগে আগে তোমার শব্দ শুনলাম)। (ইবনে খুজায়মা, সহিহ তারগিব)

উল্লেখিত হাদিসের আলোকে বুঝা যায়, মুমিন ব্যক্তির ওজু ছুটে গেলে পুনরায় ওজু করা এবং আজানের পর মসজিদে গিয়ে ২ রাকাআত নামাজ আদায়ে অনেক ফজিলত ও মর্যাদা রয়েছে। যা প্রিয়নবি হাদিসে বর্ণনা করেছেন। আর এ দুটি কাজ (বার বার ওজু ও নামাজ আদায়) প্রত্যেক মানুষের জন্যই অনেক সহজ। তাই মুমিন মুসলমানের উচিত ওজু ছুটে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুনরায় ওজু করে নেয়া।

আর আজান হলে মসজিদে গিয়ে প্রথমেই ২ রাকাআত নামাজ আদায় করে নেয়া। আশা করা যায়, এ আমল নিয়মিত করলে আল্লাহ তাআলা হজরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু’র মতো মর্যাদা মুমিন মুসলমানকে দান করবেন। পরিশেষে… নামাজ ও ওজুর হেফাজত মুমিন মুসলমান মাত্রই বেশি করে থাকেন। হাদিসে পাকে প্রিয়নবি থেকে এমন বর্ণনাই পাওয়া যায়- হজরত সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা (দ্বীনের প্রত্যেক বিষয়ে) কর্তব্য নিষ্ঠ হও।

আর তাতে কখনোই পূর্ণ সক্ষম হবে না।জেনে রেখ! তোমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ আমল নামাজ। আর মুমিন ব্যতিত কেউই ওজুর হেফাজত করে না।’ (ইবনে মাজাহ, মুসতাদরেকে হাকেম, তারগিব)। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নামাজ ও ওজুর যথাযথ হেফাজত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Leave A Reply