সুদের চাপে নবজাতককে দত্তক দিতে চাওয়া সেই দরিদ্র মায়ের পাশে ইউএনও - Bd Online News 24
Home » লাইফষ্টাইল » সুদের চাপে নবজাতককে দত্তক দিতে চাওয়া সেই দরিদ্র মায়ের পাশে ইউএনও

সুদের চাপে নবজাতককে দত্তক দিতে চাওয়া সেই দরিদ্র মায়ের পাশে ইউএনও

দীর্ঘদিন ধরে নানা অসুখে ভুগছেন পাবনার চাটমোহর উপজেলার হাণ্ডিয়াল ইউনিয়নের বৃ-রায়নগর গ্রামের দরিদ্র ভ্যানচালক নজরুল ইসলাম। নিজের চিকিৎসা আর সংসার চালাতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি।এমন পরিস্থিতির চাপে পড়ে বেশ কয়েকজন সুদে কারবারির কাছ থেকে টাকা ধার করেন নজরুল। যা পরবর্তীতে সুদে আসলে দাঁড়ায় প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকা।

পরে টাকা দিতে না পারায় সন্তানসম্ভবা স্ত্রী ময়ুরী খাতুনকে তার ভায়রার বাড়িতে রেখে সুদে কারবারিদের চাপে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান দরিদ্র নজরুল। এরই মাঝে স্ত্রী ময়ুরী খাতুন ২০ দিন আগে চতুর্থ সন্তান প্রসব করেন।স্বামীর খোঁজ না পেয়ে আর সন্তানের ভবিষ্যত চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি। এমন অবস্থায় তার নবজাতককে দত্তক নিতে চান এক নিঃসন্তান দম্পতি। বিনিময়ে দিতে চান কিছু টাকা।দীর্ঘদিন ধরে নানা অসুখে ভুগছেন পাবনার চাটমোহর উপজেলার হাণ্ডিয়াল ইউনিয়নের বৃ-রায়নগর গ্রামের দরিদ্র ভ্যানচালক নজরুল ইসলাম। নিজের চিকিৎসা আর সংসার চালাতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি।

এমন পরিস্থিতির চাপে পড়ে বেশ কয়েকজন সুদে কারবারির কাছ থেকে টাকা ধার করেন নজরুল। যা পরবর্তীতে সুদে আসলে দাঁড়ায় প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকা।পরে টাকা দিতে না পারায় সন্তানসম্ভবা স্ত্রী ময়ুরী খাতুনকে তার ভায়রার বাড়িতে রেখে সুদে কারবারিদের চাপে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান দরিদ্র নজরুল। এরই মাঝে স্ত্রী ময়ুরী খাতুন ২০ দিন আগে চতুর্থ সন্তান প্রসব করেন।

স্বামীর খোঁজ না পেয়ে আর সন্তানের ভবিষ্যত চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি। এমন অবস্থায় তার নবজাতককে দত্তক নিতে চান এক নিঃসন্তান দম্পতি। বিনিময়ে দিতে চান কিছু টাকা।সম্প্রতি ফেসবুকে এই বিষয়টি ভাইরাল হয়, নজরে পড়লে ওই পরিবারটির পাশে দাঁড়ান চাটমোহরের ইউএনও সরকার অসীম কুমার। সুদ কারবারীদের কবল থেকে মুক্তিতে স্বস্তি ফিরে আসে স্বজনদের।

সোমবার নজরুলের স্ত্রী ময়ুরী খাতুনকে ডেকে তাদের নানা অসুবিধার কথা শোনেন ইউএনও। পরে ইউএনও সরকার অসীম কুমার ময়ুরী খাতুনকে স্বাবলম্বী করে তুলতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেলাই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন এবং প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন দেয়ার আশ্বাস দেন।

এছাড়া তার হাতে তুলে দেন শুকনা খাবার। এ সময় ইউএনও সুদ কারবারিদের সুদের টাকা দিতে বারণ করেন এবং ময়ুরী খাতুনকে বাড়ি ফিরে যেতে বলেন এবং যে কোনো সমস্যা জানাতে ইউএনওকে জানাতে বলেন।এর আগে গত রোববার বিশ্ব মা দিবসের দিন ‘নিজের সন্তানকে বিক্রি করে দিচ্ছেন আপন মা। সুদের টাকা শোধ দিতেই এমন আয়োজন’-শিরোনামে তার ফেসবুক টাইমলাইনে এবং চেতনায় চাটমোহর নামে একটি ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট দেন। মূহুর্তেই পোস্টটি ভাইরাল হয়ে পড়ে।

ফেসবুক পোস্টে সন্তান বিক্রি করতে চাওয়া মা এবং তার পরিবারের সবকিছু জানতে চেয়ে এবং এর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়ে কমেন্টস করেন ইউএনও সরকার অসীম কুমার। পরে হান্ডিয়াল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের তত্বাবধানে ময়ুরী খাতুন সেই সন্তানসহ সোমবার সকালে ইউএনওর কার্যালয়ে হাজির হন।

এ বিষয়ে ইউএনও সরকার অসীম কুমার জানান, ময়ুরী খাতুন আমার অফিসে এসেছিলেন। মুলত তারা ধারের টাকা শোধ করতে না পেরে এমন বিপদে পড়েছেন। তাকে (ময়ুরী) স্বাবলম্বী করে তুলতে সেলাই প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এছাড়া তার স্বামী যদি কোন ব্যবসা করতে চায় তাহলে সে ব্যাপারেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে ছেলে বিক্রি করার বিষয়টি সঠিক নয়।প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী হিসেবে সবসময় অসহায় মানুষের পাশে আছি এবং থাকবো বলে জানান এই কর্মকর্তা।

ময়ুরী খাতুন এই প্রতিবেদককে জানান, আমার চার ছেলে। সুদের টাকার জন্য স্বামী ঘড়ছাড়া। নিঃসন্তান জনৈক এক শিক্ষক আমার সদ্য ভূমিষ্ঠ ছেলেকে দত্তক নেয়ার প্রস্তাব দেন। বিনিময়ে তিনি কিছু টাকা দেবেন বলে জানান। আত্মীয় স্বজনসহ অনেকেই চাপাচাপি করলে ছেলের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ওই মাস্টারকে দত্তক দেয়ার সিদ্ধান্ত নেই। তবে ছেলেকে বিক্রি করতে চাইনি কখনও।

তিনি জানান, সদ্য ভূমিষ্ট সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের চিন্তা করে দত্তক দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তবে এতে আপত্তি জানিয়েছিলেন স্বামী। অবশেষে ইউএনও সরকার অসীম কুমারের হস্তক্ষেপে আমরা দুশ্চিন্তামুক্ত হয়েছি। ইউএনও স্যার আমাদের পরিবারের জন্য যা করলেন তা কোনদিন ভুলবো না বলে মত ব্যক্ত করেন ময়ুরী খাতুন।

ময়ুরী খাতুনের স্বামী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযাগ করা হলে তিনি বলেন, ছেলে বিক্রি বা দত্তক দেয়ার প্রশ্নই আসে না। আমি ঋণগ্রস্থ হয়ে এলাকা ছেড়ে ঢাকায় পালিয়েছিলাম। সোমবার এমন ঘটনা শুনে আমি ভায়রার বাড়ি চরএনায়েতপুরে এসেছি। আমাদের বিপদের কথা শুনে ইউএনও স্যার এগিয়ে আসায় এখন একটু স্বস্তি পাচ্ছি।

Leave a Reply

[X]