কলম্বিয়ার কাছে আর্জেন্টিনার লজ্জাজনক এই পরাজয়

0

শুরু হয়েছে ল্যাতিন আমেরিকানদের ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের আসর কোপা আমেরিকা। শনিবার ভোরে স্বাগতিক ব্রাজিলের মুখোমুখি হয় বলিভিয়া। এই ম্যাচের মধ্যে দিয়েই পর্দা উঠে কোপার ৪৫তম আসরের। টুর্নামেন্ট শুরুর একদিন পর আজ রবিবার (১৬ জুন) মাঠে নেমেছিল আসরের অন্যতম ফেবারিট আর্জেন্টিনা। টুর্নামেন্টের বর্তমান রানারআপ তারা, প্রতিপক্ষের বিপক্ষে অতীত পরিসংখ্যানও কথা বলছে তাদের পক্ষেই।

ফলে কোপা আমেরিকায় নিজেদের প্রথম ম্যাচে কলম্বিয়ার সঙ্গে আর্জেন্টিনার সহজ জয়ই আশা করছিলেন ভক্ত-সমর্থকরা।
কিন্তু জয় দূরে থাক, মাঠের খেলায় ন্যুনতম প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারেনি লিওনেল মেসির দল। ছন্নছাড়া ফুটবলের মাশুল দিয়ে তারা ম্যাচটি হেরে গেছে ০-২ ব্যবধানে। দ্বিতীয়ার্ধে করা দুই গোলেই আর্জেন্টিনার বিপক্ষে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট পেয়ে গেল কলম্বিয়া।

প্রথমার্ধের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর দ্বিতীয়ার্ধে যখন আস্তে আস্তে গুছিয়ে উঠল আর্জেন্টিনা, তখনই গোল করেন মার্টিনেজ। নিজেদের অর্ধ থেকে হোসে রদ্রিগেজে লং বল পাঠিয়েছিলেন আর্জেন্টিনার ডিবক্সের বাইরে ডানদিকে। মার্টিনেজ সেই বল রিসিভ করে সহজেই আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার রেনজো সারাভিয়াকে পার করে যান কাট করে। এরপর বুলেট গতির এক শট মারেন কোণাকুণি। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা নিকোলাস অটামেন্ডি দর্শকের মতো চেয়ে থেকেছেন।

আর গোলরক্ষক ফ্রাঙ্কো আর্মানি ঝাঁপ দিয়েও নাগাল পাননি বলের। মার্টিনেজের গোলটি ২০১১ সালের পর আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কলম্বিয়ার প্রথম। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৫৬৫ মিনিটের গোলখরা কলম্বিয়ার কেটেছে দুর্দান্ত এক গোলে। ম্যাচ শেষের চার মিনিট আগে জেফেরসন ফারফানের মাপা ক্রস থেকে দারুণ ফ্লিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দুভান জাপাতা। রাদামেল ফ্যালকাওয়ের বদলি হয়ে মাঠে নামার ৫ মিনিটের মধ্যেই গোল করেন তিনি। তাতে নিশ্চিত হয়ে যায় কলম্বিয়ার জয়ও।

প্রথমে শুরুটা এতোখানি মন্দ ছিল আর্জেন্টিনার। ৮ মিনিটে মিডফিল্ড থেকে লিওনেল মেসির বাড়ানো লং বলের নাগাল পেতে পারতেন সার্জিও আগুয়েরো। তবে গোলরক্ষক ডেভিড অস্পিনা এগিয়ে এসে ক্লিয়ার করতে গিয়ে আগুয়েরোকেই দিয়েছিলেন বল। কিন্তু সামনে থাকা দুই ডিফেন্ডারকে আর ফাঁকি দিতে পারেননি আগুয়েরো। প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনার বলার মতো আক্রমণ ওই একটাই। ১৫ মিনিটেই শেষ আর্জেন্টিনার আধিপত্য।

এরপর কলম্বিয়ার ছড়ি ঘোরানোর পালা। এর মধ্যে নিজেদের অর্ধে শ খানেক খেলেও প্রতিপক্ষের অর্ধে ঢুকতে পারছিলেন না মেসিরা। এলোমেলো লং বলে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা চালাচ্ছিল আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধে সেই চেষ্টা সফল হয়নি একবারও। আর্জেন্টিনার দুই ফরোয়ার্ড মেসি আর আগুয়েরো একবারও নিজেদের মধ্যে পাস অদল বদল করতে পারেননি প্রথমার্ধে। প্রতিপক্ষের ডিবক্সের ভেতর তাই প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা বল ছুঁয়ে দেখল ওই একবারই।

আর্জেন্টিনার জন্য তার চেয়েও বেশি হতাশার ছিল রক্ষণ। কলম্বিয়া যে প্রথমার্ধে আর গোল দিতে পারেনি সেটা আর্জেন্টিনার সৌভাগ্যই ছিল। গোলরক্ষক ফ্রাঙ্কো আর্মানির ভুলে কপাল পুড়তে পারত আর্জেন্টিনার। নিচ থেকে বিল্ড করে খেলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছিলেন না আর্মানি। তবুও প্রতিপক্ষের প্রেসিং উপক্ষে করে সেটাই করতে গেলেন ৩০ মিনিটে। হামেস রদ্রিগেজ ভুলের ফায়দা প্রায় লুটে নিয়েছিলেন, পেছন থেকে এসে লো সেলসো কোনোমতে বল ক্লিয়ার করে দলকে বাঁচিয়ে দেন।

৯ মিনিট পর প্রায় একইভাবে রাদামেল ফ্যালকাওকে গোলবঞ্চিত করেন জার্মান পেতজেলে। এসবের আগে অবশ্য একটা ধাক্কাও খেয়েছিল কলম্বিয়া। ম্যাচের শুরুর দিকে ইনজুরিতে পড়া লুইস মুরিয়েলকে বদলি করাতে হয় কার্লোস কুইরোজকে। তার জায়গায় নামা মার্টিনেজও সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন আর্জেন্টিনার জন্য। মাঠেই নেমেই অল্পের জন্য গোল মিস করেছিলেন তিনি ১৬ মিনিটে। বিরতির সময়ে স্কালোনিকেও বদলি করাতে হলো।

তবে ডি মারিয়া বাদ পড়লেন বাজে খেলে। প্রথমার্ধে বলের দেখা পেয়েছেন খুব কম, পেলেও নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি। তার জায়গায় নামা উদিনেসের রদ্রিগো ডি পল নেমে প্রাণের সঞ্চার করলেন কিছুটা আর্জেন্টিনার লেফট ফ্ল্যাংকে। তাতে আর্জেন্টিনা গোল হজমের আগ পর্যন্ত কিছু হাফ চান্স তৈরি করেছিল। মেসি-আগুয়েরোর দারুণ বোঝাপড়া দেখে গিয়েছিল একবার। তবে গোল পর্যন্ত যেতে পারেননি মেসি ওই আক্রমণ থেকে।

৫৯ মিনিটে প্রথমবার গোলে শট করেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। সেটাও ডিবক্সের বাইরে থেকে। শটে গতি থাকলেও ছিল না সঠিক দিকনিশানা, অস্পিনা সহজেই লুফে নেন বল। ম্যাচের সেরা সুযোগটা অবশ্য মেসিই পেয়েছিলেন। আগুয়েরোর ডানদিক থেকে করা ক্রসে ভালো হেড করেছিলেন অটামেন্ডি। অস্পিনার রিফ্লেক্স সেভ থেকে বল গিয়ে পড়েছিল সিক্স ইয়ার্ড বক্সের মাথায় মেসির সামনে। মেসিও হেড করেছিলেন।

কিন্তু সেখান থেকেও গোল করতে পারেননি। এর চার মিনিট পরই গোল হজম করে আবার সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায় আর্জেন্টিনার।
বি গ্রুপে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় ম্যাচ প্যারাগুয়ের বিপক্ষে। সেই ম্যাচেও হেরে গেলে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার পথ অনেকটাই ঝুলে যাবে আর্জেন্টিনার। আর্জেন্টিনা একাদশ: আর্মানি, সারাভিয়া, পেতজেলে, অটামেন্ডি, গুইদো রদ্রিগেজ, পারেদেস, লো সেলসো, ডি মারিয়া, মেসি, আগুয়েরো।

Leave A Reply