শিশু পানিতে নামলেই বেজে উঠবে মিজানের অভিনব যন্ত্র

নতুন কিছুর প্রতি অপার আগ্রহ তার। ছোটবেলার সেই আগ্রহই তাকে নিয়ে এসেছে নতুন কিছু বানানোর জগতে। একে একে বানিয়েছেন বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পানি তোলার যন্ত্র, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র, মোটরকার এবং প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য বিশেষ যান এমন আরও কত-কী! এবার পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার রোধে অভিনব যন্ত্র আবিস্কার করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। আর এই উদ্ভাবকের নাম মিজানুর রহমান।

পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার দিনে দিনে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে শিশু মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। কোনো কোনো পরিবারে একটি, কোনো পরিবারে দুইটি আবার কোনো পরিবারে তিনটি শিশু একই সাথে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে, যা ভুক্তভোগী ওই পরিবারের জন্য কতটা কষ্টদায়ক তা বলার অবকাশ রাখে না। পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর এমন সব করুন চিত্র দেখে মন কেঁদেছে উদ্ভাবক মিজানুর রহমানের। তাই পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার কমাতে তিনি তৈরি করেছেন এমন এক যন্ত্র, যা শিশুকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করবে।

এ ব্যাপারে উদ্ভাবক মিজানুর রহমান জানান, দেশের বিভিন্ন পুকুর, ডোবা, খাল-বিল, জলাশয়ে প্রতিনিয়ত পানিতে ডুবে শিশুরা মারা যাচ্ছে। এসব করুন হৃদয় বিদারক ঘটনাগুলো আমাকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে। তাই পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুকে কিভাবে রোধ করা যায় সেই পথ খুঁজতে থাকি। অবশেষে দীর্ঘ প্রতিক্ষার পরে এক পর্যায়ে সেই সফলতা খুঁজে পেয়েছি।

তিনি বলেন, আমি এমন এক যন্ত্র আবিস্কার করেছি, যা শিশুর শরীরে যে কোনো জায়গায় তাবিজের মত বেঁধে রাখতে হবে। অতি ক্ষুদ্র এ যন্ত্রটি বহনে শিশুর কোনো সমস্যা হবে না। এ যন্ত্রটি তার পানিতে ডুবে যাওয়া রোধে সহায়তা করবে। ডিভাইস ব্যবহৃত শিশু যখনই পানির সংস্পর্শে আসবে তখন তার বাড়িতে রাখা এলার্মে বিপদ সংকেত বাজতে থাকবে। তখন বাড়িতে থাকা শিশুটির পরিবারের যে কেউ তাকে উদ্ধার করতে পারবে। আর এই থেকে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার কমতে থাকবে।

মিজানুর রহমান আরো জানান, তার আবিস্কার এই যন্ত্রটি এখনো কাঙ্খিত আকার দেওয়া হয়নি।
প্রাথমিকভাবে এই যন্ত্রটির আকার একটু বড়। ধীরে ধীরে এই যন্ত্রটি শিশুর বহন উপযোগী করে তোলা হবে।

জানা গেছে, যন্ত্রটি তৈরি করতে মিজানুরের লেগেছে একটি মোবাইল ব্যাটারি, একটি ডিভাইজ, একটি এলার্ম মাইক। যা প্রাথমিকভাবে এই যন্ত্রটি ক্রয় করতে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পড়বে।

এ বিষয়ে মিজানুর বলেন, কোনো কিছু করতে হলে প্রয়োজন অর্থের। অর্থ ছাড়া কোনো কিছুই সম্ভব নয়। তাই সরকারের সুদৃষ্টি কামনাসহ এবং অর্থের জোগান দিতে পারলেই এই যন্ত্রটি বাজারজাত করতে পারব। আর তা থেকেই দেশ ও দেশের বাইরের সকল অবুঝ ও কমলমতী শিশুরা অকালে পানিতে ডুবে মরার হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব হবে।

উদ্ভাবক মিজানের ব্যাপারে আরো জানা গেছে, মিজানের বাড়ি যশোরের শার্শা উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামে। পেশায় তিনি মোটরসাইকেল মেকানিক। তবে তার অভাবনীয় আবিস্কারের শেষ নেই।

মিজানের আবিস্কারের মধ্যে রয়েছে আগুন নির্বাপক জ্যাকেট, ডিজিটাল কাইচি, দেশিয় তৈরি মিনি এ্যাম্বুলেন্স, পরিবেশ বান্ধব যন্ত্র, স্বয়ংক্রিয় সেচ যন্ত্রসহ অসংখ্য আবিস্কার।

এও জানা গেছে, বিভিন্ন সময়ে সরকারের বিভিন্ন সহযোগিতায় গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তিনি আশা করছেন, একটি গবেষণাগার ও আর্থিক সাহায্য পেলে দেশের জন্য আরো বড় কিছু করে যেতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*