অবশেষে পরিচয় পাওয়া গেল পুলিশের কাছে হেনস্থা হওয়া সেই তরুণীর

হেনস্থা হওয়া সেই তরুণীর – রাজধানীতে গভীর রাতে তল্লাশির নামে পুলিশের টিজিং ও হয়রানির শিকার হওয়া তরুণী নাম সাবরিনা লাবনী। তিনি একজন প্রফেশনাল সিঙ্গার। সেই রাতে ফিরছিলেন গায়ে হলুদের একটা প্রোগাম শেষ করে। সাবরিনা চান না, এ ঘটনায় তার নাম-পরিচয় প্রকাশ পাক। তাই নিজেকে আড়ালে রেখেছেন।

সাবরিনা লাবনীর ঘণিষ্ঠজনরাও তাকে এ ঘটনায় নিজেকে আর না জড়াতে পরামর্শ দিয়েছেন। তাই ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে চাইলে এ বিষয়ে কোনো কথা বা মন্তব্য করবেন না জানিয়ে বললেন, পুলিশের বাজে আচরণের তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ আমি করেছি। তাই এ বিষয়ে আর কোনো কথা নয়।

পুলিশ কিংবা অন্য কেউ যদি অপমান করার চেষ্টা করে তা মুখ বুঁজে সহ্য না করে নারীকে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়েছেন গায়িকা সাবরিনা লাবনী।সোমবার (২২ অক্টোবর) রাতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেন সাবরিনা লাবনী। নির্ধরিত সময়ের চেয়ে অনেক দেরিতে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ায় তার গান শেষ করতে করতে অনেক রাত হয়ে যায়।

আয়োজকদের তাকে বাসায় পৌছে দেওয়ার কথা থাকলেও তারা গাড়ি নষ্ট হওয়ার অজুহাতে কথা রাখেননি। গাড়ির জন্য অপেক্ষায় না থেকে আয়োজকদের সঙ্গে অনেকটা রাগারাগি করেই সিএনজিতে করে রাত ২টার দিকে বাসার উদ্দেশে একাই রওনা হয়ে যান।

রামপুরা এলাকার চেকপোস্টে সিএনজি অটোরিকশাটিকে তল্লাশির উদ্দেশে থামায় পুলিশ সদস্যরা। এসময় গায়িকা সাবরিনা লাবনীর সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন তারা। সাবরিনা পুলিশের অশোভন উক্তির প্রতিবাদ করলে তার পরিবারের সদস্যদের নিয়েও খারাপ মন্তব্য করেন পুলিশ সদস্যরা।

সাবরিনা বার বার পুলিশকে ব্যাগ তল্লাশি করতে বললেও তা না করে তারা অশোভন মন্তব্য চালিয়ে যান। এতে একপর্যায়ে সাবরিনা লাবনী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তরুণীর সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা।

পরে এ ঘটনায় জড়িত রামপুরা থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ইকবালসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া) সোহেল রানা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে। ডিএমপির সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার (খিলগাঁও জোন) নাদিয়া জুঁই এ ঘটনার তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*