বাংলাদেশের সামনে রেকর্ড গড়ার চ্যালেঞ্জ

দিনজুড়েই চলল রোদ ও মেঘের লুকোচুরি। কখনও গুমোট, কখনও আলোর ঝলকানি। ঠিক যেন ম্যাচে বাংলাদেশের সম্ভাবনার মতোই। কখনও শঙ্কার আঁধার, কখনও আশার আলো। দিন শেষের ছবিতেও থাকল আশা ও নিরাশার দোলাচল। বাংলাদেশের কাজটি খুব কঠিন। জিততে হলে গড়তে হবে রেকর্ড। তবে এই জিম্বাবুয়ের সামনে খুবই সম্ভব।

শেষ ইনিংসে এসে সিলেটের অভিষেক টেস্ট দাঁড়িয়ে রোমাঞ্চকর মোড়ে। জয়ের জন্য শেষ দুই দিনে বাংলাদেশের প্রয়োজন ২৯৫ রান। চ্যালেঞ্জ জয়ের পথে আপাতত স্বস্তির উপলক্ষ্য ১০ উইকেটই অক্ষত থাকায়।

দ্বিতীয় ইনিংসে জিম্বাবুয়েকে দেড়শ মধ্যে আটকে রাখার লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের। জিম্বাবুয়ে করতে পেরেছে একটু বেশি, ১৮১। প্রথম ইনিংসের ১৩৯ রানের লিড মিলিয়ে শেষ ইনিংসে বাংলাদেশের লক্ষ্য ৩২১। সোমবার তৃতীয় দিন শেষে রান বিনা উইকেটে ২৬।

২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২১৫ তাড়ায় জয় টেস্টে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রান তাড়ার রেকর্ড। বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় রান তাড়া ২০০৮ সালে ৩১৭ করে নিউ জিল্যান্ডের জয়। এবার জিততে পারলে তাই একইসঙ্গে দুটি রেকর্ড নতুন করে গড়বে বাংলাদেশ।

তাইজুল ইসলামের সৌজন্যে লক্ষ্যটা খুব বেশি নাগালের বাইরে যায়নি। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটের পর দ্বিতীয় ইনিংসে এই বাঁহাতি স্পিনার নিয়েছেন ৫ উইকেট। ১৭০ রানে ১১ উইকেট, টেস্টে বাংলাদেশের তৃতীয় সেরা বোলিং ফিগার।
দিনের শুরুটায় জিম্বাবুয়ে ছিল বেশ সতর্ক। প্রথম ১০ ওভারে উইকেটের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। প্রথম ব্রেক থ্রু আসে মেহেদী হাসান মিরাজের হাত ধরে। লাইন মিস করে বোল্ড ওপেনার ব্রায়ান চারি।

মিরাজ পরে ফিরিয়েছেন বাধা হয়ে থাকা হ্যামিল্টন মাসাকাদজাকেও। ৪৮ রানে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে দেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক।

এই দুই উইকেটের মাঝে তাইজুল ধরেন প্রথম শিকার। তিনে নেমে আগ্রাসী কিছু শট দ্রুত রান বাড়াচ্ছিলেন ব্রেন্ডন টেইলর। সেই চেষ্টায়ই ইমরুল কায়েসের দারুণ ক্যাচে ফিরেছেন ২৪ রানে।

এরপর শন উইলিয়ামস, সিকান্দার রাজা চেষ্টা করেছেন লিড বাড়াতে। কিন্তু কাউকেই খুব বেশি এগোতে দেননি তাইজুল। প্রথম ইনিংসে প্রাচীর হয়ে থাকা পিটার মুরকে ফিরিয়েছেন প্রথম বলেই। শেষ ব্যাটসম্যান টেন্ডাই চাটারাকে ফিরিয়ে পূর্ণ করেছেন ম্যাচে দ্বিতীয় ৫ উইকেট।

তাইজুলের সঙ্গে অন্য দুই স্পিনার মিরাজ ও নাজমুল ইসলাম অপুও যোগ দিয়ে খুব বেশি বাড়তে দেননি লিড। ১৬ রানের মধ্যে জিম্বাবুয়ে হারিয়েছে শেষ ৪ উইকেট।

ক্যারিয়ারে প্রথমবার ১০ উইকেটের স্বাদ পেয়েছেন তাইজুল। বাংলাদেশের হয়ে ১০ উইকেটের স্বাদ পাওয়া চতুর্থ বোলার তিনি। সাকিব আল হাসান এই স্বাদ পেয়েছেন দুইবার।

বাংলাদেশের মূল চ্যালেঞ্জ শুরু হয় অবশ্য এরপরই। মেঘলা আকাশে অন্ধকার হয়ে আসা মাঠে ফ্লাড লাইট জ্বলে ওঠে বেলা সাড়ে তিনটার দিকেই। বিকেলটা কাটিয়ে দেওয়া তাই সহজ ছিল না। ইমরুল কায়েস ও লিটন দাস মিলে তবু পার করে দেন সময়টুকু। আলোকস্বল্পতায় খেলা শেষ হয় নির্ধারিত সময়ের ২৫ মিনিট আগে।
তৃতীয় দিন দুপুরের পর থেকেই উইকেটে বল টার্ন করছে আগের চেয়ে একটু বেশি, গ্রিপও করছে খানিকটা। অসমান বাউন্সও আগের তুলনায় বেড়েছে। তবে ধৈর্য ও নিবেদন দেখালে উইকেটে পড়ে থাকা সম্ভব এখনও। বাংলাদেশের সামনে সময়ের অভাব নেই, আর সময় কাটালে রানেরও দেখা মিলবে। জিম্বাবুয়ের স্পিন আক্রমণও নয় আহামরি। প্রথম ইনিংসের বিপর্যয়ের পরও বাংলাদেশের আশার জায়গা তাই আছে।

শেষ পর্যন্ত যদি দারুণ কিছু করে ফেলতে পারে বাংলাদেশ, সিলেটের অভিষেকটাও হয়ে থাকবে স্মরণীয়। প্রায় ১১ মাস পর টেস্ট খেলতে নামা জিম্বাবুয়েও নিশ্চয়ই শুনতে পাচ্ছে জয়ের ডাক। আপাতত দুই দলেরই অপেক্ষা, সেই রোমাঞ্চ নিয়েই।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: জিম্বাবুয়ে ১ম ইনিংস: ২৮২ বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ১৪৩

জিম্বাবুয়ে ২য় ইনিংস: ৬৫.৪ ওভারে ১৮১ (হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ৪৮, চারি ৪, টেইলর ২৪, উইলিয়ামস ২০, রাজা ২৫, মুর ০, চাকাভা ২০, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ১৭, মাভুটা ৬, জার্ভিস ১*, চাটারা ৮; তাইজুল ২৮.৪-৮-৬২-৫, অপু ৬-১-২৭-২, আবু জায়েদ ৭-১-২৫-০, মিরাজ ১৯-৭-৪৮-৩, মাহমুদউল্লাহ ৪-১-৭-০, মুমিনুল ১-০-৪-০)।

বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ১০.১ ওভারে ২৬/০ (লিটন ১৪*, ইমরুল ১২*)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*